লেবেল

নিজেকে এখনও গুছিয়ে নিতে পারিনি

২২ জুন, ২০১১

ব্লগের ভাঙা গড়ার খেলা । টেমপ্লেট ডিজাইন অভিযান

একটা ব্যাক্তিগত ব্লগ খুলেছি সেই কবে । কিন্তু নিয়মিত পোস্ট করা হচ্ছে না । সেই সাথে দেয়া যাচ্ছে না ব্লগকে একটা আকর্ষণীয় চেহারা । কত টেমপ্লেটই যে লাগাম । কিন্তু চোখ আর ভরে না । তাই কিছুদিন ব্লগ ডিজাইন করা থেকে দূরে ছিলাম । কিন্তু অনেক আনাড়ী মানুষের কাছেও সুন্দর সুন্দর ব্লগ টেমপ্লেট দেখে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারলাম না । নিজের ব্লগের দিকে তাকিয়ে বললাম ধরছি তরে । আইজ সুন্দর বানাইয়া ছাড়মুই । দিলাম গুগোলে সার্চ । আসল অনেক টেমপ্লেট । কিন্তু আমার যে কি চোখ আল্লাহ জানেন । কোনটাই পছন্দ হয় না..!! ও আল্লাহ তাইলে উপায় ?? যখন আমি চোক্ষে আন্ধার দেখতাছি তখনই পাইলাম এই সাদামাটা কিন্তু সুন্দর টেমপ্লেটটা । দিলাম ডাউনলোড , করলাম এক্সট্রাক্ট । আহ টেমপ্লেটটা লাগানোর পর যা খুশি লাগছে না । কি আর কমু

১৫ জুন, ২০১১

একজন নির্যাতিত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষিকা রুমানা মনজুর এবং আমরা .....

কালকের প্রথম আলোতে পারিবারিক নির্যাতনের ভয়াবহ রূপ শিরোনামের লেখাটা নিশ্চয় পড়েছেন । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী অধ্যাপিকা রুমানা মনজুর কে কিভাবে তার পাষন্ড স্বামী নির্যাতন করেছেন । যিনি এখন ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন । নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তিনি ও তার মেয়ে আনুশা । রুমানা মনজুরের ভাষায় " কক্ষে ঢুকেই পেছন থেকে হামলা চালায় ও। চুলের মুঠি ধরে দুই চোখে আঙুল ঢুকিয়ে দেয়। কামড়ে নাক-মুখ ক্ষত-বিক্ষত করে। রক্তে পুরো শরীর ভরে যায়। একপর্যায়ে মেঝেতে পিছলে পড়ি নিজের রক্তের ওপর  " ।


ডাক্তারের ভাষ্যমতে, রুমানা মনজুরের বাঁ চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। ডান চোখে দেখতে পারবে কি না, তা-ও অনিশ্চিত।’


রুমানা মনজুরের স্বামী হাছান সাইদ বুয়েট থেকে পাশ করা একজন ইঞ্জিনিয়ার । ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া একজন ছাত্র হিসেবে নিজেকে ছোট মনে করেছিলাম । মনে করেছিলাম আমরা কি এই শিখছি ?? ভাবতে কষ্ট হয় কিভাবে একজন শিক্ষিত মানুষ নিজের স্ত্রীর উপর এমন পাশবিক নির্যাতন করতে পারে । অবশ্য সে যদি আসলেই মানুষরূপী জানোয়ার না হয়ে থাকেন । প্রথম আলোতে কয়েকজন পাঠকের মন্তব্য দেখুন


Abdullah al-mamun. রংপুর
১. সমাজের একজন প্রতিষ্টিত নারীর যদি এই দশা হয় তবে সাধারন নারীদের অবস্থা কেমন যাচ্ছে একটু ভাবুন।


Prabir Paul
২. সাইদ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে পাস করা প্রকৌশলী! সাবাস ! লেখা পড়া করে অনেক উচু ধরনের মানুহুস হয়েছে সাইদ। এমন অমানুষ হয়েছে যে তাকে গহিন বনে নিয়ে রাখলে হিংস্র পশুরা বন্ধু ভাববে । থু দেই এই শিক্ষার কপালে । এটা নি:সনদেহে আমাদের অসুস্থ্য সমাজের পরিস্কার চিত্র ।


Sajid
৩. এই বিষয়ে কি মন্তব্য করবো তার ভাষা সত্যিই আমার জানা নাই। আমি নিজেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর একজন প্রাক্তন ছাত্র। বর্তমানে উচ্চশিক্ষার্থে দেশের বাইরে আছি। কাজ না থাকলে মানুষের মাথা যে শয়তানের মাথা হয় এই কলাম এর "হাসান সাইদ" বিষয়ে আমার এখন এটাই শুধু মনে হচ্ছে। নারকিয়, পাশবিক , জঘন্য......।।


desh premik
৪. অমানবিক, ভয়ংকর! এমন পাষন্ড আর কুতসিত স্বভাবের মানুষ যে দেশে আছে সেটা মাঝে মাঝেই এসব খবরের মাধ্যমে জানা যায়। শিক্ষিত নামের কুশিক্ষিত এবং জঘন্য স্বভাবের মানুষ এমন কাজ করতে পারে, সেটা আমরা প্রায়ই ভুলে যাই। অথচ, আমাদের সমাজেই লুকিয়ে আছে এমন হাজারো জঘন্য চরিত্রের মানুষ। আমরা রুমানার জন্য দোয়া করতে পারি আর পাষন্ড হাসানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করি


Banglar Gaan
৫. এই ভদ্রলোক কে একটি খাঁচায় ভরে বাকি জীবনটা সুন্দরবনে রেখে আসা উচিৎ হবে, এবং খাঁচায় লিখে দিতে হবে "বন্যেরা বনে সুন্দর"।


shamim
৬. আমরা আজ কোন দেশে বাস করছি? আমাদের মন মানসিকতা এমন কেন? আমরা কি পরবর্তী প্রজন্মের জন্য এমন শিক্ষাই রেখে যাব? সাইদ এর পরিবারের এরকম কিছু ঘটলে ওকি এটা মেনে নিতে পারত? সাইদের শাস্তি জনসম্মুখে হওা উচিৎ । তাহলে এরকম ঘটনা ঘটানোর দুঃসাহস আর কেও পাবেনা। দোয়া করি রোমানা যেন খুব শীঘ্রই সুস্থ হয়ে উঠে।


রুমানার পাশে আজ দাড়িয়েছে তার সহপাঠীরা , তার ছাত্র ছাত্রীরা সহ সমাজের সকল বিবেকবান মানুষ । ফেছুবুকে গ্রুপ খোলার মাধ্যমে তার বন্ধুরা আন্দোলন গড়ে তুলছে এই পাশবিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে । আপনারাও শরীক হোন । চলুন ধিক্কার জানাই মানুষরূপী জানোয়ার হাছান সাইদকে । সমাজে আন্দোলন গড়ে তুলি আর যেন কোন নারী কোন শিক্ষিকাকে এমন ভাবে নির্যাতিত হতে না হয় । কারণ এরাই কিন্তু আমাদের কারও না কারও মা , কারও না কারও বোন আর কারও না কারও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ।

৫ মে, ২০১১

মৃধাতের জন্য ভালবাসা

মনে আছে মৃধাতের কথা ? ইউনিভার্সিটিতে পড়ুয়া চট্টগ্রামের সেই শান্ত মেয়েটির কথা ? মৃধাত শারিমা রহমান । যে কিনা নৃশংসভাবে খুন হয়েছিল তারই বন্ধুর হাতে । মনে না থাকারই কথা । মৃধাত যে আজ আর আমাদের মাঝে নেই । চলে গেছে না ফেরার দেশে । আজ মৃধাতের জন্মদিন । আজ এই দিনে মৃধাতকে মনে পড়ছে খুব । তার জন্যই এই লেখা ।


প্রতিদিনের মত সেদিনও ঘুম ভেঙেছিল কিছুটা দেরি করে । ঘুম থেকে উঠে অভ্যাসবশত হাতে নিয়েছিলাম প্রথম আলো পত্রিকাটা । পত্রিকার দিকে তাকিয়েই চোখ আটকে গেল একটি খবরের দিকে । খুব সুন্দর একটি মেয়ের ছবি দেয়া । নিচে লেখা ভার্সিটি পড়ুয়া মেয়ে খুন । শিরোনামটা মনে নেই, কিন্তু এমনই কিছু ছিল । শিরোনামটি পড়ে আমি মেয়েটির ছবির দিকেই তাকিয়ে ছিলাম অনেকক্ষণ । এরপর খুব দ্রুতই খবরটি পড়ে ফেললাম । পড়ার সময় ভাবছিলাম এও কি সম্ভব ?? পেপারে যা লিখা ছিল তা হল খুনিটার সাথে মৃধাতের সম্পর্ক ছিল । কিন্তু খুনিটা ছিল বখাটে । আর তাই মৃধাত চেয়েছিল সম্পর্ক শেষ করতে । তাই সে অন্য এক বন্ধুর বাসায় শেষবারের মত দেখা করতে গিয়েছিল তার প্রেমিকের সাথে । সেখানে ছাদের উপর মৃধাতের সাথে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ের বখাটে ছেলেটি মৃধাতের উপর উপর্যপুরি ছুড়ি চালায় । হাসপাতালে নেয়ার পথে মৃধাত চলে যায় না ফেরার দেশে । গ্রেফতার হয় খুনি সৌরভ ।


খবরটি পড়ে আমি আরও কিছুক্ষণ তাকিয়ে ছিলাম ছবিটির দিকে । ভাবছিলাম কিভাবে সম্ভব ? মনের মধ্যে অগণিত প্রশ্ন এসে ভিড় করা শুরু করল । এত সুন্দর একটা মানুষকে কি কেউ খুন করে ? ভালবাসার মানুষকে কি কেউ খুন করতে পারে ? এত সুন্দর নিষ্পাপ মেয়েটির কি অপরাধ ছিল ? এ কেমন ভালবাসা যে ভালবাসা হিংস্রতার জন্ম দেয় ? সারাদিন ভেবেও কোন জবাব পাইনি । নিজের কাছেই নিজেকে খুব ছোট মনে হচ্ছিল । একটা ছেলে খুন করেছে ওকে । আমারই মত কেউ একজন । একটা ছেলে, একটা মানুষ । কিন্তু না পরক্ষণেই মনে হল মানুষ না । তার তুলনা শুধু একটা পশুর সাথেই হতে পারে । মাঝে মাঝে বলি মৃধাত তুমি আমাদের ভুল বোঝনা । ওই একটা ছেলের জন্য সব ছেলেই খারাপ হতে পারে না । তোমার জন্য, তোমার হত্যাকারীর বিচারের প্রত্যাশায় তাকিয়ে আছে আমার মত আরও অনেক ছেলে । মৃধাত আমার কেউ ছিল না । আমি ওকে চিনিও না । কিন্তু ওর জন্য আমার কষ্ট কম হয়নি । মনে হয়েছিল খুব কাছের একজন বন্ধুকে হারিয়েছি আমি । খুব কাছের ।


আজ মৃধাত নেই । স্মৃতি হয়ে বেঁচে আছে সব বন্ধুর হৃদয়ে । মৃধাতকে কেউ ভুলে যায়নি । মৃধাতের জন্য মানববন্ধন করেছে তার বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুরা । তার জন্য রাস্তায় নেমে এসেছিল সব মানুষ । মৃধাতের স্মৃতির জন্য বন্ধুরা খুলেছে ফেইছবুক ফ্যান পেইজ । ৭ হাজারের উপরে লাইক , প্রতিদিন মৃধাতের উদ্দেশ্যে পোস্ট প্রমাণ করে মৃধাতের প্রতি মানুষের ভালবাসা । মৃধাত তুমি উপর থেকে দেখছ তো আমাদের ?


আজ মৃধাতের জন্মদিন । মৃধাত যখন ছিল তখন হয়ত অনেক মজা করেই ওর জন্মদিন পালন করা হত । আমি জানি আজ স্বর্গে ওর বন্ধুরা ওর জন্মদিন পালন করবে । তখন কি একবারও ওর মনে পড়বেনা ওর বন্ধুদের কথা , যে বন্ধুরা ওর জন্মদিনে পার্টি দিত ? আমার মনে হয় পড়বে । মৃধাত যে তার বন্ধুদের খুব ভালবাসত ।


ছবিটি মৃধাতের ফেইছবুক ফ্যান পেইজ থেকে নেওয়া

২৭ এপ্রিল, ২০১১

বইপড়ার অভিজ্ঞতা..!!

ছোট বেলায় পড়েছিলাম বই কিনে নাকি কেউ দেওলিয়া হয় না । বর্তমান যুগে এই কথাটা কতটা যুক্তিসঙ্গত তা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে । কিন্তু এটা নিয়ে আমার কোন সন্দেহ নেই যে বই পড়ে কেউ দেওলিয়া হয় না । আমি বিশ্বাস করি একমাত্র বই পড়লেই প্রাচুর্য লাভ করা যায় । জ্ঞানের প্রাচুর্য । যা কখনও কমেনা , বরং বেড়েই যায় । কারণ বইই একমাত্র মাধ্যম যেখানে সঞ্চিত আছে হাজারো মানুষের অর্জিত জ্ঞান । আর সেই বই পড়া মানেই তার অর্জিত জ্ঞান নিজের মধ্যেও নিয়ে নেওয়া । শতাব্দী প্রাচীনকাল থেকে বিবর্তনের মাধ্যমে কাগজ থেকে বই আজ ইবুকে রূপ নিয়েছে ।


খুব ছোটবেলায় পাঠ্যবইয়ের বাইরে আর কোন বই পড়তাম না । ছোটবেলার সেই ধারাপাত বই পড়তেই অনেক কষ্ট হত আর ভাবতাম কখন পড়া শেষ করে খেলতে যাব । ছোটবেলায় ঠাকুমার ঝুলিতে ঝোলেনি এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যাবে । ছেলে বুড়ো সকলের কাছে এখন পর্যন্ত সমান জনপ্রিয় ঠাকুমার ঝুলি । আমার মনে হয় বাংলা সাহিত্যে সবচেয়ে বেশিবার পঠিত বই ঠাকুমার ঝুলি । রাক্ষোস ক্ষোকসের সাথে রাজকন্যা আর রাজপুত্রের প্যাচগোচ বুঝতে বুঝতে ঘুমাতে হত তখন । ঠাকুমার ঝুলি মানুষ নাকি দাদী নানীর কাছেই প্রথম শুনে থাকে । কিন্তু সত্যি বলতে কি আমি প্রথম গল্প শুনি আমার বড় আপুর কাছে । ঠাকুমার সাথে আপু প্রাইজ হিসেবে পাওয়া বিভিন্ন দেশের রূপকথার গল্প বইটাও পড়ে শোনাত । আমার পেছনে আমার বড় আপুর অবদান কখনই ভুলতে পারব না ।


যাই হোক এরপর কিছুটা বড় হয়ে কমিকস পড়া শুরু করলাম । ক্লাশ থ্রিতে পড়ার সময় হাতে এল প্রাণের কমিকস..!! প্রতিদিন স্কুল থেকে ফেরার পথে কমিকস কিনতাম । আম্মুর সাথে আমার ডিলই ছিল প্রতিদিন আমাকে কমিকস কিনে দেয়া । আর সেই সব বই বন্ধুরা শেয়ার করতাম । চাচা চৌধুরী , বিল্লু , পিঙ্কি , রমণ , ডায়নামাইট , ফ্যান্টম , লম্বু মোটু , প্রাণের সব বইই পড়াতাম । তবে এর মধ্যেও সবচেয়ে প্রিয় ছিল অবশ্যই চাচা চৌধুরী । সাবু আর কুকুর রকেটকে নিয়ে চাচা চৌধুরীর সেই কাহিনীগুলা আজও ভুলতে পারিনি । আর ভুলতে পারিনি ব্যাক ডায়ালগ...চাচা চৌধুরীর বুদ্ধি কম্পিউটারের চেয়ে প্রখর...!!!


আস্তে আস্তে বড় হতে লাগলাম । কিন্তু বই পড়ার দিক থেকে আর বড় হতে পারছিনা । ছোট গল্প আর কমিকসের বাইরে অন্য কিছুই ভাল লাগেনা । ততদিনে আপুরা দেখতাম মাঝারি সাইজের কিছুটা মোটা তিন গোয়েন্দা নামে কি বই যেন পড়ত । অনেক চেষ্টা করেছি । কিন্তু ভাল লাগাতে পারিনি । আমার বন্ধুরাও ততদিনে তিন গোয়েন্দা পড়া শুরু করে দিয়েছে । কিন্তু আমি পড়তেই পারছিনা । কষ্ট লাগে এত বড় বই পড়তে..!!! ওই সময়ে বিমান দূর্ঘটনা বইটা যে কতবার শুরু করেছি তার ইয়াত্তা নেই । কিন্তু শেষ করতে পারিনি । অবশেষে ক্লাশ সেভেনে আমার বন্ধু রিফাত আমাকে এক রকম জোর করেই একটা তিন গোয়েন্দা বই পড়তে দিল । অনেক অনুরোধ করে বলল শুধু একটা বই যেন আমি পড়ি । এরপর ভাল না লাগলে আর পড়ার দরকার নেই । আমার এখনও মনে আছে রিফাতের দেয়া আমার পড়া তিন গোয়েন্দার প্রথম বইটির কথা । বইটি ছিল জলদস্যুর মোহর নামে একটা বই । ওই বইতে তিন গোয়েন্দার চিরশুত্রু শুঁটকি টেরিও ছিল । স্কুল থেকে এসে ড্রেস চেঞ্জ না করেই বিছানায় শুয়ে পড়া শুরু করেছিলাম বইটি । আমার এখনও মনে আছে সারাদিন লেগেছিল বইটা শেষ করতে । বইটা শেষ করে মনে হয়েছিল আমি যেন অন্য কোন জগতে চলে গিয়েছি । ওই বয়সে অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় প্রতিটি কিশোর কিশোরীর কাছে তিন গোয়েন্দা ছিল রীতিমত হিরো । সবাই আচ্ছন্ন ছিল তিন গোয়েন্দার লাইফের প্রতি । আমিও তার ব্যাতিক্রম ছিলাম না । বাংলাদেশে তিন গোয়েন্দা পড়েনি এমন শিক্ষিত কিশোর কিশোরী মনে হয় কমই আছে । আমার মনে হয় তিন গোয়েন্দা পড়ার পর থেকেই আমি কিছুটা আধুনিক হয়েছি, বাইরের দুনিয়া সম্পর্কে জানতে পেরেছি । তাই তিন গোয়েন্দার কাছে আমি আজীবন ঋণী হয়ে রইলাম ।


এস.এস.সি পরীক্ষার রেজাল্ট দেয়ার আগ পর্যন্ত শুধু তিন গোয়েন্দাই পড়েছি । এর বাইরে সেবার কিছু অনুবাদ আর ওয়েস্টার্ণ পড়েছি । তবে তিন গোয়েন্দার মত আর কিছুই আমাকে টানতে পারেনি । অনেকেই তখন মাসুদ রানা পড়ত । কিন্তু মাসুদ রানা আমাকে কখনও টানতে পারেনি । কারণটা আমি নিজেও জানিনা । তখন পর্যন্ত যে কোন ধরণের উপন্যাস আমার জন্য নিষিদ্ধ ছিল । কিন্তু আমি ওই সময় ফুপির বাসায় গিয়ে তসলিমা নাসরিনের নিষিদ্ধ উতল হাওয়া বইটি লুকিয়ে পড়ে ফেলেছিলাম..!! হা হা হা । যদিও আইনটা আমার ছোট বোনের ক্ষেত্রে ছিল না । ও ক্লাশ সেভেন থেকেই হুমায়ূন, মিলন পড়ত । দুইজনের জন্য কেন দুইটি ভিন্ন আইন বলবৎ ছিল আমি জানিনা । বড় আপু ছিল এই আইনের প্রবক্তা । তবে অবশ্য পাঠ্যের তালিকায় হাজার বছর ধরে ছিল বলে ওই কার্ফিউর সময় উপন্যাসটা পড়েছিলাম । আমার সর্বাধিক পঠিত বইয়ের তালিকায় হাজার বছর ধরে বইটি বেশ উপরের দিকেই থাকবে । মন্তু আর টুনির কৈশোরিক প্রেম কাহিনী সেই কিশোর বয়সে আমার মনে অনেক দোলা দিয়েছিল..!!


কলেজে উঠেই আমার যে কথা প্রথম মনে হয়েছে সেটা হল আমি এখন অনেক বড় । তাই সবকিছুই পড়ার বয়স আমার হয়েছে । কিন্তু হায় যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই সন্ধ্যা হয় । সাতকাহন বইটা নিয়ে প্রথমেই ধরা খেলাম আপুর হাতে । যথারিতী জানলাম কার্ফিউ বলবৎ আছে । সুনীল সমরেশ পড়ার বয়স হয়নি । অগ্যতা হুমায়ূন আর জাফর ইকবালই ভরসা । কলেজের দুই বছর চুটিয়ে হুমায়ূন আহমেদ আর জাফর ইকবালের বই পড়েছি । জাফর ইকবালের বই আগেও পড়েছি, কিন্তু সত্যিকারের মজা পাইছি এই দুই বছরে । ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরীর সদস্য ছিলাম, সেই সাথে বাসার সংগ্রহ নেহাত কম ছিল না । তাই বইয়ের অভাব হয়নি । দুই ভাইয়ের সব লেখাই গোগ্রাসে গিলতাম । হিমু পড়ে উদাস হতাম, তো মিসির আলী পড়ে আবার বিচক্ষণ ব্যাক্তি, তার মাধ্যমেই ট্রেনে করে ঘুরে এসেছি দারূচিনি দ্বীপ আর কলম্ব । মনে আছে জাফর ইকবালের আমি তপু পড়ে চোখের পানি আটকে রাখতে পারিনি । খুব ইচ্ছে করত দুষ্ট ছেলেদের দলের সাথে মিশে যেতে, দীপু নাম্বার টুর মত প্রাচীন গুহায় গুপ্তধন খুজতে, হাত কাটা রবিনের মত বন্ধু পেতে । আর আমার বন্ধু রাশেদ পড়ে শিখেছি রাজাকার হায়েনাদের ঘৃণা করতে , দেশকে ভালবাসতে, মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান করতে ।


এতসব ছাড়া আহসান হাবীব, আব্দুল্লাহ আবু সাইদ স্যার , নিমাই ভট্টাচার্য, জীবনানন্দ দাসের লেখাও পড়েছি । ভালবাসা কি জিনিস তা নিমাই ভট্টাচার্যের মেমসাহেব পড়েই প্রথম বুঝেছি । পাঠ্য বইয়ের বাইরে রবীন্দ্রনাথ আর নজরুলের কিছু বই পড়েছি । কিন্তু শ্রীকান্ত আর দেবদাস ছাড়া শরৎ রচনাবলী পড়া হয়নি । যুগের হাওয়ায় হ্যারি পটার, দ্য দ্যা ভিঞ্চি কোড পড়তে হয়েছে । পটার সিরিজ আমার কাছে তিন গোয়েন্দার মতই প্রিয় । এছড়াও ইমদাদুল হক মিলন, প্রণব ভট্ট আর আনিসুল হকের কিছু বই পড়া হয়েছে । শেষ পড়েছি সৈয়দা ফারজানা সুলতানার জলে ভেজা মন । কিন্তু পড়া হয়নি সুনীল সমরেশ...!!! এই ইউনিভার্সিটি জীবনে প্রবেশ করেও আপুর কাছে শুনতে হয় " আগে বড় হও তারপর সুনীল সমরেশ পড়বা..!!" আমিও আর সেটা নিয়ে মাথা ঘামাইনা । আগ্রহও হারিয়ে ফেলছি সুনীল সমরেশের প্রতি । ও আমার ছোট বোনের কিন্তু সমরেশের প্রধান বইগুলা পড়া শেষ..!!


আজ যখন ফেলে আসা জীবনের পাতা উল্টাই তখন মনে হয় কম বই পড়িনি । তখন হিসেব করতে বসে যাই কি শিখলাম আমি । ভেবে কোন কূল পাইনা । ছোট্ট একটা অনুভূতি বুকের ভেতর থেকে বের হয়ে আসে । জ্ঞানের মহাসমুদ্রে এ আমার ক্ষুদ্র পদচিহ্ন মাত্র ।


ভাল থাকুন । ধন্যবাদ

১৪ এপ্রিল, ২০১১

আমার খেলা দেখা


বিশ্বকাপ দেখতে পারিনি , তাই বলে কি বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া সিরিজ মিস করব..!! কখনই না । যতই কষ্ট হোক এই সিরিজটা দেখতেই হবে । বিশ্বকাপ দেখিনি , তাই দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানো আর কি । কিন্তু টিকেট কিনতে গিয়ে আবারও টের পেলাম বাংলাদেশ আসলেই ক্রিকেটীয় জাতি । প্রথম দুই ম্যাচের টিকেট পেলাম না..!! ভাবতেই পারিনি বিশ্বাকাপ শেষ হওয়ার পর পরই এই সিরিজের উপর মানুষের এত আগ্রহ থাকবে । যাই হোক অনেক কষ্টে অনেক ক্রোশ দূর পথ হেটে টিকেট পেলাম ৫ টা । আমরা ৫ বন্ধু মিলেই খেলা দেখব । আমরা কেটেছিলাম ডে নাইট ম্যাচ । প্রথম দুই ম্যাচ বাংলাদেশ ভাল খেলেনি । তাই টেনশনে ছিলাম আমাদের ডে নাইট ম্যাচ যেন ডে তেই শেষ না হয়ে যায়...!!!


১৩ তারিখ ক্লাশ মিস দিলাম শুধু খেলা দেখব বলে । খেলা শুরু দুপুর ২ টা থেকে , বাসা থেকে বের হলাম ১.৩০ টায়..!! ঢাকার রাস্তার চিরাচরিত জ্যাম পেরিয়ে পৌছে গেলাম স্টেডিয়াম এলাকায় । কিছু খেয়ে , গালে পতাকা একে লাইনে দাঁড়িয়ে ঢুকে গেলাম স্টেডিয়ামে । ঢুকেই অবাক চমৎকৃ্ত হলাম এত সুন্দর স্টেডিয়ামটা দেখে । ভাবতে ভালই লাগে যে বাংলাদেশ আসলে অনেক এগিয়ে গেছে । স্টেডিয়ামটা বিশ্বের যেকোন ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সাথে পাল্লা দেয়ার মত । একেবারে সাজানো গোছানো একটা স্টেডিয়াম । তবে ঝামেলা হল আসন পাওয়া নিয়ে । আমাদের আসন ছিল লোয়ার লেভেলে উপরে । কিন্তু ঢুকে দেখি উপরে কোন আসন খালি নাই । অগ্যতা কি আর করা বসে গেলাম অন্য আসনে । ভালই মজা করে খেলা দেখছিলাম । ডিস্টার্ব শুরু হল তখন । যে আসনে আমরা আসন গ্রহণ করেছিলাম তার মালিক এসে হাজির । দিল আমাদের উঠিয়ে , এখন উপায় ?? উপায় একটাই উদ্ধার করতে হবে আমাদের নিজেদের আসন । খুজেও বের করলাম । বসে আছে কয়েকটা যুগল । আহা ইচ্ছে করেনি তাদের ডিস্টার্ব করতে , কিন্তু আমরা ছিলাম নিরুপায় তাই কি আর করা উঠাতেই হল । বসলাম আরাম করে , একেবারে নির্ঝনঝাট ভাবে খেলা দেখছি । এদিকে তো অস্ট্রেলিয়া রান তুলছে একেবারে বুলেট গতিতে । আর বাংলার দামাল ছেলেরা যেন ফিল্ডিং মিসের প্রতিযোগিতা শুরু করছে । হাতে মনে হয় মাখন মাখিয়ে আসছে । তাই বল পিছলে বার বার সীমানা পার হয়ে যাচ্ছে । কিন্তু তাতে কি , আমরা এসেছি ক্রিকেট দেখতে । তাই চার হলে আমরাও লাফিয়ে উঠেছি , আনন্দ করেছি । দেখতে দেখতেই অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস শেষ । বাংলাদেশের সামনে টার্গেট ৩৬২, বাংলাদেশ কি পারবে এই রান অতিক্রম করতে ?? আগের দুই ম্যাচের যে অবস্থা তাতে সম্ভব না । তারপরও আশায় ছিলাম । দেখা যাক কি হয় । তামিম আর ইমরুল কায়েস নেমেই পিটাতে লাগল জনসনকে । একটা করে চার হয় আর দর্শকের চিৎকারে কেঁপে উঠে গোটা স্টেডিয়াম । কিছুক্ষন পর তামিম আউট । নাফিস এসে দেখে শুনে খেলতে লাগল , আর ইমরুল রানের চাকা সচল রাখল । মনে হচ্ছিল জিতেই যাবে বাংলাদেশ । দর্শক অপেক্ষা করছিল ইমরুলের সেঞ্চুরির জন্য । কিন্তু বেচার নার্ভাজ নাইন্টিজে এতই নার্ভাস ছিল যে মামুলি একটা বলেই আউট । সাকিব এরপর নাফিস , সাকিব দুজনেই অবিবেচকের মত শট খেলে আউট । তবে ভাল লাগছে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের খেলা । বেচারার প্রতিভা বাংলাদেশ কখনই ব্যবহার করতে পারেনি । তাই রিয়াদ বেশী বল না খেলে ফিফটি মারল । কিন্তু বাংলাদেশের ইনিংস শেষ ২৯৬/৬ এ । এটাই অস্ট্রেলিয়া বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান । ম্যাচের প্রাপ্তি এইটুকুই । এটা বাংলাদেশ কোচ সিডন্সের শেষ ম্যাচ । আফসোস সিডন্সের শেষটা সুন্দর হল না । তবে সিডন্সের কাছে কৃ্তজ্ঞ থাকবে বাংলাদেশ । তার সময়েই বাংলাদেশ এতটা উন্নতি করছে । এই ম্যাচে আমার প্রাপ্তি কতটুকু ?? অনেক । হ্যা অনেক । জীবনের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ দেখা তাও অস্ট্রেলিয়ার সাথে । তাই অনেক উত্তেজিত ছিলাম । কত যে চিৎকার করেছি বলে বোঝাতে পারব না । এতদিন যাদের টিভিতে দেখেছি তারা আমার সামনে..!! ভাবলেই কেমন যেন লাগে । ব্রাডম্যানের পর অস্ট্রেলিয়ার সেরা ব্যাটসম্যান রিকি পন্টিং আমার সামনে । কি ভাগ্যবান আমি..!!! মনে হয় না আর কখনও দেখতে পাব পন্টিংকে । মাশরাফি , সাকিব সবাই সামনে..!!! সে এক অদ্ভুত অনুভূতি । বলে আসলে বোঝানো যাবে না । তবে আফসোস প্রাইজ সেরেমনিটা দেখতে পারিনি । কেন জানি পুলিশ তাড়াতাড়ি আমাদের বের করে দিল । মনে হয় দায়িত্ব পালন করে তারা ক্লান্ত । যাই হোক অবশেষে আমার আন্তর্জাতিক ম্যাচ দেখার ইচ্ছা পূরণ হল আমি এতেই খুশি..!!!!


সারাদিন খেলা দেখে খুব ক্লান্ত । আমার আনন্দটা সবার সাথে শেয়ার করতেই রাত জেগে এই পোস্ট লেখা । ভাল লাগলে আমার আরও ভাল লাগবে । খুব ঘুম পাচ্ছে , ঘুমাব । রাত পোহালেই পহেলা বৈশাখ । সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা । ভাল থাকবেন । শুভ রাত্রি

Twitter Delicious Facebook Digg Stumbleupon Favorites More

 
Design by Free WordPress Themes | Bloggerized by Lasantha - Premium Blogger Themes | coupon codes